চীনে টাইফুন ও বন্যা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি, জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় জোর
জুলাই ১৪: চলতি বছরের নবম টাইফুন ‘বাভি’ গত ১১ ও ১২ জুলাই দুই দফায় চীনের চ্যচিয়াং প্রদেশে আঘাত হানে। ১৩ জুলাই সকাল ৮টায় এটি আনহুই প্রদেশের সুচৌ শহরের সিসিয়ান কাউন্টিতে প্রবেশ করে। এরপর উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে থাকে এটি। টাইফুন ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণের জানমালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চীনের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ গ্রহণ করেছে ব্যাপক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, টাইফুন ‘বাভি’ এবং এর সঙ্গে যুক্ত আর্দ্র বায়ুর প্রভাবে ১৩ থেকে ১৪ জুলাই আনহুই, চিয়াংসু, শানতোং, শানসি এবং উত্তর-পূর্ব চীনের বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে।
১১ জুলাই রাত থেকে আনহুই প্রদেশের হুয়াংশান শহরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১১ জুলাই রাত ১০টা থেকে ১৩ জুলাই দুপুর ২টা পর্যন্ত শহরটিতে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৮০ দশমিক ৫ মিলিমিটারে পৌঁছেছে। শ্য কাউন্টির কিছু নদীর পানি ঘোলাটে হয়েছে, কোথাও স্রোত তীব্র হয়েছে এবং আগের দিনগুলোর তুলনায় সার্বিকভাবে পানির স্তরও বেড়েছে।
টাইফুন ‘বাভি’ সরে যাওয়ার সাথে সাথে ১৩ তারিখ সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত হুয়াংশান শহরজুড়ে বৃষ্টিপাত কমে যায়। হুয়াংশান জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর উপপরিচালক লিউ চিকাং বলেন, টাইফুন দুর্বল হয়ে এলেও আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি থাকে। তাই জলাধার, বাঁধ এবং সম্ভাব্য ভূতাত্ত্বিক দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোয় নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে, শানতোং প্রাদেশিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, টাইফুনটির বাইরের দিকের মেঘমালা ১২ জুলাই থেকে প্রদেশটির আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলছে। ১৩ তারিখ রাতে এই মেঘমালা শানতোংয়ের দক্ষিণ উপকূল বরাবর অথবা উপদ্বীপের পূর্ব অংশ দিয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হয় এবং ১৪ তারিখ দিনের বেলায় শানতোং উপদ্বীপের মধ্য দিয়ে উত্তর ‘হুয়াং’ হলুদ সাগরে প্রবেশ করবে। এর ফলে প্রবল বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া, উপকূলে উত্তাল সমুদ্র, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং নগর ও গ্রামীণ এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।
শানতোং প্রাদেশিক জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক উ চিয়াছিং জানান, প্রদেশজুড়ে সকল স্তরে ৭৫ হাজারেরও বেশি কর্মীর সমন্বয়ে দুই হাজার চারশ’রও বেশি দল এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগ কবলিত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাবে। এখন শানতোং প্রদেশ, শহর ও কাউন্টিগুলোয় প্রায় ৯৮ লাখ বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগ ত্রাণ-সামগ্রী মজুত রয়েছে, যা প্রথম স্তরের প্রাদেশিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ত্রাণ কার্যক্রমের অধীনে পুনর্বাসন ও সহায়তার মৌলিক চাহিদা পূরণ করছে।
অন্যদিকে, টাইফুন ‘বাভি’ ও এর প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে হ্যপেই প্রদেশের কিছু এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ত্রাণ জরুরি পরিকল্পনা অনুযায়ী, হ্যপেইতে চতুর্থ স্তরের জাতীয় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চালু করেছে জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ, প্রশমন ও ত্রাণ কমিটি।
ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন এবং দুর্গত মানুষের মৌলিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় একটি বিশেষ কর্মীদল পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে স্থানীয় ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন কেন্দ্রীয় বাজেট থেকে ৩ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ দিয়েছে।
সূত্র: ওয়াং হাইমান, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।