তথাকথিত দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি রায় এক টুকরো বাতিল কাগজ ছাড়া কিছু নয় : সিএমজি সম্পাদকীয়

ঊর্মি
১৫ জুলাই, ২০২৬
তথাকথিত দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি রায় এক টুকরো বাতিল কাগজ ছাড়া কিছু নয় : সিএমজি সম্পাদকীয়
তথাকথিত দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি রায় এক টুকরো বাতিল কাগজ ছাড়া কিছু নয় : সিএমজি সম্পাদকীয়
শেয়ার

জুলাই ১৩: ১২ জুলাই ছিল ‘দক্ষিণ চীন সাগর সালিশি মামলা’ নামের অবৈধ রায় ঘোষণার দশম বার্ষিকী। ফিলিপাইন এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশ আবারও এই রায়কে সামনে এনে বিভিন্ন বক্তব্য ও প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে। আদতে, মূল্যহীন এক টুকরো কাগজ নিয়েই ফের মাতামাতি করছে তারা। 

 

একটি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, জুনের মাঝামাঝি থেকে ফিলিপাইনের বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রচার কার্যক্রম বেড়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ কয়েকজন রাজনীতিক চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন, বেইজিং ওই ‘সালিশি রায়’ মেনে নিচ্ছে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাসহ কয়েকটি দেশ যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছে, দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ঐতিহাসিক অধিকার দাবির আইনি ভিত্তি নেই।

 

তারা পরিস্থিতি যতই ঘোলাটে করুক না কেন, এই সত্য বদলাতে পারবে না যে, তথাকথিত রায়টি অবৈধ, অকার্যকর এবং এর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তাই ওই ‘রায়ে’র মাধ্যমে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকারকে খর্ব করাও সম্ভব নয়। 

 

আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতি প্রয়োজন। স্থলভাগের আঞ্চলিক বিষয়গুলো জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশনের এখতিয়ারভুক্ত নয়। পাশাপাশি, ২০০৬ সালে চীন জাতিসংঘের সমুদ্র আইনবিষয়ক কনভেনশনের আওতায় সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত বিরোধকে বাধ্যতামূলক সালিশি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছিল। 

 

ফিলিপাইন একতরফাভাবে তথাকথিত ‘দক্ষিণ চীন সাগর সালিশ’ শুরু করে। সালিশি কার্যক্রম শুরুর প্রয়োজনীয় আইনি শর্তাবলি মোটেও পূরণ হয়নি তাতে। এতে ‘দক্ষিণ চীন সাগরের বিভিন্ন পক্ষের আচরণবিধিতে’ সরাসরি জড়িত পক্ষগুলোকে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির যে কথা বলা হয়েছিল, তারও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে। চীন-ফিলিপাইন দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, একতরফা সালিশি উদ্যোগে লঙ্ঘন হয়েছে সেটারও।

 

ফিলিপাইনের কিছু মহল বিষয়টি সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত। তা সত্ত্বেও এই রায়ের ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে দেশটিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে উপস্থাপন করা যায়। আন্তর্জাতিক সমাজকে প্রতারিত ও বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যেই এমনটা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, ২০২৩ সাল থেকে চীনের প্রতি মার্কোস প্রশাসনের নীতিতে স্পষ্ট পরিবর্তন আসে। এরপর থেকেই মূলত দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুতে চীনের বিরুদ্ধে উস্কানি তীব্রতর হয়েছে।

 

এই বছর, আসিয়ানের পালাক্রমিক চেয়ারম্যান দেশ হিসেবে ফিলিপাইন সুযোগটি কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ চীন সাগর ইস্যুটি আবারও উস্কে দিতে চায়। আসিয়ানের চেয়ারম্যান হিসেবে ফিলিপাইন এ ইস্যুকে আঞ্চলিক সহযোগিতার পরিবর্তে বহুপাক্ষিক বিরোধে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে সহযোগিতা ও সংলাপ প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

 

ফিলিপাইন যতই বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করুক না কেন, চীনের মনোভাব অবিচল ও স্পষ্ট। এটি তথাকথিত রায়কে স্বীকৃতি দেয় না, এবং সেই রায়ের ওপর ভিত্তি করে যেকোনো দাবি বা পদক্ষেপেরও বিরোধিতা করে। ঐতিহাসিক ও আইনগত—উভয় দিক থেকেই দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপপুঞ্জ ও তার সংলগ্ন জলরাশির ওপর চীনের অবিসংবাদিত সার্বভৌমত্ব রয়েছে।

 

চীনের এ সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিক আইনের ‘আবিষ্কার ও পূর্বাধিকারের মাধ্যমে ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব অর্জন’ নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, চীন-কায়রো ঘোষণা ও  পটসডাম ঘোষণাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনি দলিল অনুসারে দক্ষিণ চীন সাগরের দ্বীপপুঞ্জের ওপর চীন সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ পুনরায় শুরু করে, যা ব্যাপক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছিল। এমনকি, দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক অধিকারের দাবির বিষয়ে কোনো আপত্তিও জানায়নি।

 

সূত্র: ওয়াং হাইমান, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

মতামত