পোলিও নির্মূলে বাংলাদেশের পাশে চীন: দিল ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন
বাংলাদেশে পোলিও রোগ নির্মূল এবং টিকাদান কর্মসূচিকে আরও বেগবান করতে ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন উপহার দিয়েছে চীন। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চীন সরকারের পক্ষ থেকে এই টিকার চালান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে দেয়া হয়। বিশ্বজুড়ে পোলিও নির্মূলের লড়াইয়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
কেন এই ভ্যাকসিন দিল চীন
মূলত দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্বের নিদর্শন এবং বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়তা হিসেবে চীন এই ভ্যাকসিন দিয়েছে। বাংলাদেশ পোলিওমুক্ত দেশ হলেও প্রতিবেশী দেশগুলোতে এর প্রকোপ থাকায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি। টিকার বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে মাঝেমধ্যে যে ঘাটতি দেখা দেয়, তা মেটাতেই চীনের এই জরুরি সহায়তা।
আগে কোন দেশ থেকে আসত এই ভ্যাকসিন?
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পোলিও ভ্যাকসিনের প্রধান উৎস ছিল ইউরোপীয় দেশসমূহ, বিশেষ করে বেলজিয়াম ও ফ্রান্স (সানোফি)। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (এবং ইউনিসেফ এর মাধ্যমে 'গ্লোবাল পোলিও ইরাডিকেশন ইনিশিয়েটিভ'-এর আওতায় বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ ও দাতা সংস্থা এই টিকার যোগান দিয়ে আসছিল।
বাংলাদেশে বার্ষিক চাহিদা ও বাজার মূল্য
বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩৮ থেকে ৪০ লাখ শিশু জন্ম নেয়। প্রতিটি শিশুর জন্য পোলিও টিকার একাধিক ডোজ প্রয়োজন হয়। সেই হিসেবে বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখের বেশি ডোজ পোলিও ভ্যাকসিনের চাহিদা থাকে।
চীন থেকে আসা এই ৩ লাখ ৮০ হাজার ডোজ ভ্যাকসিনের বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা হলেও, চীন এটি বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা অনুদান হিসেবে দিয়েছে। এর পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচও চীন সরকার বহন করেছে।
চীনের পোলিও ভ্যাকসিন এবারই প্রথম
করোনা মহামারির সময় চীন বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সরবরাহ করলেও, পোলিও ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে এটিই চীনের পক্ষ থেকে আসা প্রথম বড় মাপের চালান। এর আগে মূলত পশ্চিমা উৎপাদনকারীদের ওপরই বাংলাদেশ নির্ভরশীল ছিল।
চীনের 'ভ্যাকসিন ডিপ্লোম্যাসি'
বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপকে চীনের 'ভ্যাকসিন ডিপ্লোম্যাসি' বা টিকা-কূটনীতির একটি কৌশলগত অংশ হিসেবেই দেখছেন। এর মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতে চীনের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ছে। একইসাথে পশ্চিমা দেশগুলোর একচেটিয়া বাজার ভেঙে চীন এখন দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেকে একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে তুলে ধরছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে এখনো পোলিও বিদ্যমান। তাই এই অঞ্চলে পোলিও নির্মূলে ভূমিকা রেখে চীন নিজের আঞ্চলিক নেতৃত্ব সুসংহত করতে চায়।
চীনের এই সহায়তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কেবল অনুদান নির্ভর না হয়ে, স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনই হবে বাংলাদেশের জন্য টেকসই সমাধান। চীনের এই প্রযুক্তিগত সহায়তা যদি উৎপাদন পর্যায়েও বিস্তৃত হয়, তবেই এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পূর্ণতা পাবে মনে করছে বেল্ট এন্ড রোড হেলকেয়ারের প্রধান নির্বাহী ডা. মারুফ মোল্লা।