মধ্য-শরৎ উত্সব প্রসঙ্গ
সেপ্টেম্বর ২৫: চীনের অসামান্য ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাহক হিসেবে, মধ্য-শরৎ উত্সব দেশে ও বিদেশে বসবাসকারী চীনা মানুষের পারিবারিক পুনর্মিলনের সুন্দর প্রত্যাশাকে মূর্ত করে তোলে এবং এটি জাতীয় ও পারিবারিক অনুভূতির এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী তাত্পর্য বহন করে।
"যখন প্রতিটি পরিবার ভালো থাকবে, তখনই দেশ ভালো থাকবে এবং কেবল তখনই জাতি ভালো থাকবে।" চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও দেশের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ব্যক্তি, পরিবার ও জাতির মধ্যকার সম্পর্ক এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি গভীর জাতীয় ও পারিবারিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা, পরিবারের প্রতি ভালোবাসাকে দেশের প্রতি ভালোবাসার সাথে একীভূত করা, এবং পারিবারিক স্বপ্ন বাস্তবায়নকে জাতীয় স্বপ্নের সাথে সমন্বিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
একটি শক্তিশালী জাতি গঠন এবং জাতীয় পুনরুজ্জীবন অর্জনের যাত্রাপথে, সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং সর্বদা যুবসমাজের প্রতি তাঁর সযত্ন দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেছেন। তিনি গভীর অনুভূতির সাথে বলেছেন, "যুবক-যুবতীদের শক্তি, গতিশীলতা এবং সৃজনশীলতাই সর্বদা সেই বিশাল চালিকাশক্তি, যা চীনা জাতিকে অটল সংকল্প নিয়ে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায় এবং বিশ্বের জাতিসমূহের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম করে তোলে!"
চলতি বছর পঞ্চদশ পাঁচসালা পরিকল্পনার সূচনা হচ্ছে, যা তরুণ-তরুণীদের নিজেদের ছাপ রাখার জন্য এক উপযুক্ত সময়। যুব দিবসের প্রাক্কালে, সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং ‘চায়না ইয়ুথ মে ফোর্থ মেডেল’ এবং ‘নিউ এরা ইয়ুথ পায়োনিয়ার অ্যাওয়ার্ড’-এর প্রাপকদের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে তিনি তাদেরকে "মহান আদর্শ ধারণ করতে, কঠোর পরিশ্রম করতে এবং বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীকে তাদের ব্যক্তিগত লক্ষ্যকে দেশের সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে একীভূত করতে নেতৃত্ব দিতে, নিজ নিজ অবস্থানে থেকে ক্রমাগত নতুন সাফল্য অর্জন করতে, এবং এই নতুন যাত্রাপথে তাদের তারুণ্যের শক্তি দিয়ে অবদান রাখতে" উত্সাহিত করেছেন।
পাহাড় ও সমুদ্র দ্বারা বিচ্ছিন্ন হলেও, আমাদের শিকড় পরস্পরের সাথে সংযুক্ত। সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ প্রবাসী চীনা রয়েছেন, যাঁরা সকলেই এই বিশাল চীনা পরিবারের সদস্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে প্রবাসী চীনারা বিদেশে নিজেদের জীবন গড়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে আসছেন এবং প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও তাঁরা তাঁদের নিজ শহর ও পরিবারকে ভালোবাসেন এবং মাতৃভূমি ও নিজ শহরের উন্নয়নে তাঁদের জ্ঞান ও শক্তি দিয়ে অবদান রাখেন। "প্রবাসী চীনাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, তাঁদের দেশ, নিজ শহর এবং পরিবারের প্রতি ভালোবাসা।" সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং-এর মতে, বিপুলসংখ্যক প্রবাসী চীনা শুধুমাত্র তাঁদের আশ্রয়দাতা দেশ এবং চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদান-প্রদান ও সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি "সেতু" নন, বরং চীনা স্বপ্ন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি।
চলতি বছরের জুলাই মাসে, সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং প্রবাসী চীনাদের বিষয়াবলী নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি প্রবাসী চীনাদের হৃদয় ও প্রচেষ্টাকে আরও ভালোভাবে ঐক্যবদ্ধ করার, বিপুলসংখ্যক প্রবাসী ও দেশে ফেরা চীনা এবং তাদের আত্মীয়দের উত্তম ঐতিহ্য সমুন্নত রাখতে, গভীর দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে, তাদের অনন্য সুবিধাগুলোর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে, বৃহত্তর সাফল্য প্রদর্শন করতে, জাতীয় পুনর্মিলনের মহান উদ্দেশ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে, দেশে ও বিদেশে থাকা চীনা সন্তানদের ঐক্য ও সংগ্রামকে উত্সাহিত করতে, এবং চীনা শৈলীর আধুনিকায়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী দেশ নির্মাণ ও জাতীয় পুনরুজ্জীবনের মহান উদ্দেশ্যকে সার্বিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিপুল শক্তি সঞ্চয় করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
বসন্ত উত্সবের প্রাক্কালে, তিনি বেইজিং-এর শিনবচিয়েকৌ স্ট্রিটের ‘প্যারেন্টস ক্যান্টিন’-এ গিয়েছিলেন সেখানকার খাবার, দাম এবং খাওয়ার পরিবেশ খতিয়ে দেখতে; গ্রীষ্মকালে চারা রোপণের মৌসুমে, তিনি শানতুংয়ের ত্যচৌ-এর মাঠের গভীরে গিয়েছিলেন কৃষিজমি দেখতে এবং গ্রামবাসীদের ফসল তোলার খোঁজখবর নিতে; প্রচণ্ড গরমে, তিনি শাংহাই-এর হুয়াংপু জেলার পানসংইউয়ান রোড স্ট্রিটের ‘সিটিজেনস নিউ ভিলেজ’ আবাসিক এলাকায় গিয়েছিলেন বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মানের উন্নতির খোঁজখবর নিতে... এই ধারাবাহিক পদচিহ্নগুলো জনগণের সেবা করার মূল আকাঙ্ক্ষাকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে, যা হলো ‘জনগণের জীবনযাত্রাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে, চীনা শৈলীর আধুনিকায়ন’।
সূত্র: ওয়াং হাইমান, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।