সিনচিয়াংয়ের যাকিছু বিখ্যাত
সিনচিয়াং প্রাকৃতিক ভূদৃশ্য, ইতিহাস ও সংস্কৃতি, খাবার, ইত্যাদি অনেককিছুর জন্য বিখ্যাত। এখানে কিছু বিখ্যাত জিনিসের কথা বলছি।
প্রাকৃতিক দৃশ্য
থিয়ানশান থিয়ানছি: সিনচিয়াংয়ে চাংচি হুই স্বায়ত্তশাসিত প্রিফেকচারের ফুকাং শহরে অবস্থিত। এটি সিনচিয়াংয়ের একটি ঐতিহাসিক আকর্ষণ। স্বচ্ছ হ্রদের জলে তুষারাবৃত বোগদা শৃঙ্গের প্রতিফলন ঘটে। হ্রদটি স্প্রুস গাছ দ্বারা বেষ্টিত, যা একটি মনোরম দৃশ্য তৈরি করে।
কানাস সিনিক এরিয়া: উত্তর সিনচিয়াংয়ের সবচেয়ে সুন্দর শরতের রঙের স্থান হিসেবে পরিচিত। প্রতি শরতে এখানকার বনটি একটি উল্টে যাওয়া প্যালেটের মতো দেখায়। এটি রঙিন ও চারপাশের তুষারাবৃত পাহাড় ও হ্রদ দ্বারা সজ্জিত। অনেকটি অত্যাশ্চর্য তেলচিত্রের মতো।
সাইলিমু হ্রদ: এটি সিনচিয়াংয়ের সবচেয়ে উঁচু ও বৃহত্তম আলপাইন হ্রদ। হ্রদের পানি স্বচ্ছ ও নীল। এটি তুষারাবৃত পাহাড় দ্বারা বেষ্টিত এবং হ্রদের ধারে ফুটে থাকে বুনো ফুল। দৃশ্যপটটি অনেক সুন্দর।
ইতিহাস ও সংস্কৃতি
সিনচিয়াং উইগুর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল জাদুঘর: উরুমচিতে অবস্থিত। এই জাদুঘরে প্রচুরসংখ্যক ঐতিহাসিক ও লোকজ নিদর্শন রয়েছে। সিনচিয়াংয়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জাতিগত রীতিনীতি বোঝার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জানালা।
কাশগর প্রাচীন শহর: দীর্ঘ ইতিহাস ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অধিকারী। শহরের বেশিরভাগ ভবন ঐতিহ্যবাহী উইঘুর শৈলী ধরে রেখেছে। গোলকধাঁধার মতো রাস্তাগুলো শক্তিশালী জাতিগত বৈশিষ্ট্য ও রীতিনীতিতে পূর্ণ।
বেজেক্লিক হাজার বুদ্ধের গুহা: এটি গাওচাং এলাকায় বিদ্যমান গুহাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুহা ও দেওয়ালচিত্রসমৃদ্ধ গুহাগুচ্ছ। গুহাগুলোর দেওয়ালচিত্রগুলো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আঁকা এবং এর শৈল্পিক ও ঐতিহাসিক মূল্য অনেক।
সুস্বাদু খাবার
গ্রিল করা ভেড়ার কাবাব: কোমল ভেড়ার মাংস ছোট ছোট টুকরো করে কেটে লোহার স্কিউয়ার দিয়ে ছেঁকে নিন; কাঠকয়লার আগুনে গ্রিল করুন; জিরা, মরিচের গুঁড়ো ও অন্যান্য মশলা ছিটিয়ে দিন; খোসা সোনালী ও মুচমুচে না হওয়া পর্যন্ত গ্রিল করুন; ভেতরটা নরম, রসালো ও সুগন্ধে ভরপুর হলে রান্না শেষ। এটি একটি চমত্কার খাবার।
পিলাফ: ভাত, খাসির মাংস, গাজর, পেঁয়াজ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি মজাদার খাবার। খাসির মাংস নরম না হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। তারপর ভাত ভাজা, গাজর ও পেঁয়াজ দিয়ে সিদ্ধ করুন। এটির একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমৃদ্ধ স্বাদ রয়েছে।
সিনচিয়াং দাপাঞ্জি: মুরগি, আলু এবং আঠালো ও মসৃণ বেল্ট নুডলসের মিশ্রিণ এটি। একটি সুস্বাদু খাবার। এটি রঙ, সুবাস এবং স্বাদের দিক থেকে সিনচিয়াংয়ের অন্যতম প্রতিনিধিত্বকারী সুস্বাদু খাবার।
বিশেষত্ব
হেতিয়ান জেড: চীনের চারটি বিখ্যাত জেডের মধ্যে একটি। হেতিয়ান অঞ্চলের নামানুসারে নাম রাখা হয়েছে। হেতিয়ান জেডের উষ্ণ ও সূক্ষ্ম গঠন এবং সাদা রঙ রয়েছে। এর উচ্চ শোভামূল্য এবং সংগ্রহমূল্য রয়েছে।
সিনচিয়াং তুলা: সিনচিয়াং চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ তুলা উত্পাদনকারী অঞ্চল। এখানকার তুলায় লম্বা তন্তু, উচ্চ শক্তি ও ভালো রঙ থাকে। এটি বিশ্বের উচ্চমানের তুলার জাতগুলোর মধ্যে একটি।
ইলি ল্যাভেন্ডার: সিনচিয়াংয়ের ইলি হল চীনের ল্যাভেন্ডারের আদি শহর। এখানে উত্পাদিত ল্যাভেন্ডারে তেলের উচ্চ উপাদান ও ভালো মানের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি সুগন্ধি, প্রসাধনী, ত্বকের যত্নের পণ্য এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
সিনচিয়াং তার অনন্য বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, রন্ধনপ্রণালী, প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং প্রাচীন সিল্ক রোডের ধ্বংসাবশেষের জন্য বিখ্যাত।
বহু সংস্কৃতির স্থান: সিনচিয়াং একটি বহু-জাতির অঞ্চল, যেখানে উইগুর, কাজাখ, হান, হুই, ইত্যাদি অনেক জাতিগোষ্ঠী রয়েছে। প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য, যেমন ভাষা, ধর্ম, পোশাক, স্থাপত্য ইত্যাদি আলাদা। উইগুর নৃত্য ও সঙ্গীত সিনচিয়াংয়ের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
খাবার: সিনচিয়াংয়ে বিভিন্ন ধরণের খাবার পাওয়া যায়। বিখ্যাত খাবারের মধ্যে রয়েছে ভেড়ার স্কিউয়ার, পিলাফ, বড় প্লেট মুরগি, রোস্টেড হোল ভেড়া, প্রভৃতি। এ ছাড়াও, সিনচিয়াংয়ের ফলের মধ্যে অত্যন্ত উচ্চ পরিমাণে চিনি জমা হয়। অনন্য আলো এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে চমত্কার স্বাদ থাকে এখানে উত্পন্ন ফলমূলে।
প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী: সিনচিয়াংয়ের প্রাকৃতিক দৃশ্য মনোমুগ্ধকর। থিয়ানশান পর্বতমালা এবং কানাস হ্রদের মতো স্থানগুলো তাদের অসাধারণ দৃশ্য ও অনন্য বাস্তুতন্ত্রের মাধ্যমে অনেক পর্যটককে আকর্ষণ করে। সিনচিয়াংয়ের মরুভূমি ও তৃণভূমিও অনন্য প্রাকৃতিক দৃশ্য।
প্রাচীন সিল্ক রোডের ধ্বংসাবশেষ: প্রাচীন সিল্ক রোডের মূল এলাকা হিসেবে, সিনচিয়াং প্রাচীন সাংস্কৃতিক ধ্বংসাবশেষের সংরক্ষণস্থল। এখানে আছে তুনহুয়াং মোগাও গ্রোটো, তুরপানের জ্বলন্ত পর্বতমালা, এবং প্রাচীন শহর কাশগর।
সূত্র: ওয়াং হাইমান, চায়না মিডিয়া গ্রুপ।